উত্তম কুমার: শত বছর পরও তিনি ‘মহানায়ক’

বিনোদন ডেস্ক

একজন অভিনেতার জনপ্রিয়তা কত বছর টিকে থাকতে পারে? এক দশক, দুই দশক কিংবা একটি প্রজন্ম? সময়ের সঙ্গে সাধারণত তারকার চেহারা, অভিনয়ের ধরন, এমনকি দর্শকের রুচিও বদলে যায়। কিন্তু কিছু শিল্পী আছেন, যাদের ক্ষেত্রে সময় যেন উল্টো পথে হাঁটে। পুরোনো হতে হতে তারা আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন। উত্তম কুমার তেমনই এক বিরল উদাহরণ।

১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতায় জন্ম নেওয়া অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায় আজ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘উত্তম কুমার’ নামেই অমর। ২০২৬ সালে তার জন্মের একশ বছর পূর্ণ হলো। জীবনের পরিসর ছিল মাত্র ৫৩ বছর; চলচ্চিত্রজীবনও দীর্ঘ ছিল না—১৯৪৮ থেকে ১৯৮০। অথচ সেই সময়ের মধ্যেই তিনি এমন এক সাংস্কৃতিক পরিচয় তৈরি করে গেছেন, যা তার মৃত্যুর ৪৬ বছর পরও মুছে যায়নি।

প্রশ্ন হলো, কেন? উত্তরটি শুধু তার জনপ্রিয়তায় নেই। বরং উত্তম কুমারের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল- তিনি নিজেই নিজের তৈরি তারকা-ইমেজকে বারবার অতিক্রম করেছিলেন।

‘উত্তম কুমার’ হয়ে ওঠার আগে
আজকের দর্শকের কাছে উত্তম কুমার যেন শুরু থেকেই মহাতারকা। বাস্তবে তার পথটি মোটেও এত মসৃণ ছিল না।

১৯৪৮ সালে ‘দৃষ্টিদান’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর একাধিক ছবিতে সাফল্য পাননি তিনি। ব্যর্থতার সেই সময় পেরিয়ে ১৯৫২ সালের ‘বসু পরিবার’ এবং পরের বছর ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ তার ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আনে। ‘সাড়ে চুয়াত্তর’-এ সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তার জুটি তৈরি করে নতুন উন্মাদনা। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি।

‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘হারানো সুর’, ‘সাগরিকা’, ‘সপ্তপদী’, ‘সবার উপরে’, ‘চাওয়া পাওয়া’—একটির পর একটি ছবিতে উত্তম-সুচিত্রা জুটি বাংলা চলচ্চিত্রের রোমান্টিকতার প্রায় সমার্থক হয়ে ওঠে। কিন্তু এখানেই গল্প শেষ নয়।

কারণ শুধু রোমান্টিক নায়ক হয়েই থাকলে উত্তম কুমার হয়তো আজ কিংবদন্তি হতেন, কিন্তু ‘মহানায়ক’ হয়ে উঠতেন কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।

নিজের তৈরি ইমেজ ভাঙার সাহস
পঞ্চাশের দশকে উত্তম কুমার ছিলেন স্বপ্নের নায়ক। তাঁর হাসি, পোশাক, কণ্ঠ, ব্যক্তিত্ব- সবকিছুই দর্শকের কল্পনার প্রেমিক পুরুষের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল। কিন্তু ষাটের দশকে এসে তিনি সেই নিরাপদ জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেন।

‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’, ‘খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’, ‘চিড়িয়াখানা’, ‘নায়ক’, ‘ঝিন্দের বন্দী’- বিভিন্ন ছবিতে চরিত্রের ধরন বদলেছে, বদলেছে তাঁর অভিনয়ের ভাষাও। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ অবশ্যই ‘নায়ক’।

১৯৬৬ সালে সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় মুক্তি পাওয়া ছবিতে উত্তম কুমার অভিনয় করেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের চরিত্রে। বাইরে থেকে সফল, আত্মবিশ্বাসী ও আকর্ষণীয় এই মানুষটির ভেতরে ছিল ভয়, অনুশোচনা, অপরাধবোধ এবং নিরাপত্তাহীনতা।

এখানে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো- উত্তম কুমার নিজের তারকা-পরিচয়কেই চরিত্রটির উপাদান বানিয়েছিলেন। ফলে ‘নায়ক’ দেখার সময় দর্শকের সামনে শুধু অরিন্দম মুখোপাধ্যায় ছিলেন না; কোথাও না কোথাও ছিল বাস্তবের উত্তম কুমারের ছায়াও।

সত্যজিৎ রায়ের ছেলে সন্দীপ রায়ের স্মৃতিচারণেও উঠে এসেছে, ‘নায়ক’-এর চরিত্রটি মূলত উত্তম কুমারকে মাথায় রেখেই তৈরি করেছিলেন তাঁর বাবা। এমনকি চরিত্রটির স্বাভাবিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মেকআপ নিয়েও উত্তমের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল।

এই জায়গাতেই উত্তম কুমারের অভিনয়ের শক্তি বোঝা যায়। তিনি শুধু সংলাপ বলতেন না; চরিত্রের ভেতরের মানুষটিকে দৃশ্যমান করতেন।

ক্যামেরা যখন তাকে অনুসরণ করত
উত্তম কুমারের অভিনয়ের একটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তার ‘নীরব অভিনয়’। সন্দীপ রায়ের স্মৃতিতে, এমন দৃশ্যেও উত্তম কুমারের অভিনয় থামত না যেখানে তার কোনো সংলাপ নেই। অন্য কেউ কথা বলছেন, আর তিনি শুধু শুনছেন- তখনও চোখ, মুখের অভিব্যক্তি কিংবা শরীরের সামান্য নড়াচড়ার মাধ্যমে চরিত্রের ভেতরের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতেন। এটি একজন তারকার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ তারকা সাধারণত ফ্রেমের কেন্দ্র হয়ে ওঠেন তার উপস্থিতির কারণে। কিন্তু অভিনেতা ফ্রেমের কেন্দ্র হন চরিত্রের উপস্থিতির কারণে। উত্তম কুমারের ক্ষেত্রে দুটো বিষয় এক হয়ে গিয়েছিল। তার দিকে ক্যামেরা তাকালে তিনি শুধু ‘উত্তম কুমার’ থাকতেন না; চরিত্রটিও হয়ে উঠতেন।

স্বাভাবিক অভিনয়ের শক্তি
উত্তম কুমারের অভিনয়ের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল স্বাভাবিকতা। অতিরিক্ত নাটকীয়তা নয়, বরং চোখের দৃষ্টি, কণ্ঠস্বর, মুখের সূক্ষ্ম পরিবর্তন এবং শরীরী ভাষা দিয়ে আবেগ প্রকাশ করতেন তিনি। এই কারণেই তার অভিনয় সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয়নি।

অভিনয়ের এই স্বাভাবিকতা নিয়ে সমকালীন স্মৃতিচারণেও বারবার কথা এসেছে। তার অভিনয়ের শক্তি ছিল এমন এক সাবলীলতায়, যেখানে দর্শক অনেক সময় অভিনয় দেখার বদলে একজন মানুষকে দেখার অনুভূতি পেতেন।

‘নায়ক’ থেকে ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’: পুরস্কারের বাইরের স্বীকৃতি
উত্তম কুমারের অভিনয়ের ব্যাপ্তির সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া যায় তার পুরস্কারের ইতিহাসেও। ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার পুরস্কার প্রবর্তনের পর প্রথম বিজয়ী হন উত্তম কুমার। ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ ও ‘চিড়িয়াখানা’-য় অভিনয়ের জন্য তিনি এই স্বীকৃতি পান। জাতীয় পুরস্কারের সরকারি ক্যাটালগেও তাঁর বহুমাত্রিক চরিত্রাভিনয়ের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ তিনি একই সময়ে ছিলেন জনপ্রিয় নায়ক এবং সমালোচকদের স্বীকৃত অভিনেতা। এই দুই পরিচয়কে আলাদা করতে হয়নি তাকে।

বাংলা চলচ্চিত্রে তার অবস্থানকে বিশেষ করে তোলে এই দ্বৈত সাফল্যই- বক্স অফিসের দর্শক তাকে ভালোবাসতেন, আবার অভিনয়ের সূক্ষ্মতা নিয়েও তাকে বিশ্লেষণ করা যেত।

শুধু অভিনেতা ছিলেন না
উত্তম কুমারের পরিচয় শুধু অভিনয়ে আটকে ছিল না। প্রযোজনা, পরিচালনা, চিত্রনাট্য, সংগীত ও গানের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। তাঁর প্রযোজিত ও নির্মিত কাজের তালিকাও দেখায়, চলচ্চিত্রকে তিনি কেবল তারকা হওয়ার মাধ্যম হিসেবে দেখেননি; চলচ্চিত্র নির্মাণের নানা স্তরে নিজের সৃজনশীলতা প্রয়োগ করতে চেয়েছেন। এই বহুমুখিতাই তাঁর ক্যারিয়ারকে আরও বিস্তৃত করেছে।

তারকাখ্যাতির আড়ালে অন্য এক উত্তম
উত্তম কুমারের কিংবদন্তি শুধু পর্দায় তৈরি হয়নি। সেটের বাইরেও তার ব্যক্তিত্ব সহকর্মীদের কাছে তাকে আলাদা করে তুলেছিল।

সত্যজিৎ রায়ের ছেলে সন্দীপ রায়ের স্মৃতিতে উত্তম কুমার ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ ও ভদ্র একজন মানুষ। চা পরিবেশনকারী কর্মী থেকে শুরু করে ইউনিটের অন্য সদস্য- সবার সঙ্গেই তার ব্যবহারে ছিল একই ধরনের সম্মান। বড় তারকা হয়েও তার মধ্যে তারকাসুলভ অহংকার দেখা যেত না।

এমনকি একটি শট ঠিকভাবে নেওয়ার প্রয়োজনে সহকর্মী তাকে ধরে অবস্থান ঠিক করে দিলেও তিনি রাগ করেননি- উল্টো কাজটি ঠিক হয়েছে বলে বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিয়েছিলেন, এমন স্মৃতিও তার সহকর্মীদের কাছ থেকে এসেছে।

তারকা হওয়ার পর মানুষ সাধারণত দূরে সরে যান। উত্তম কুমারের ক্ষেত্রে সেই দূরত্ব ছিল দর্শকের সঙ্গে, মানুষের সঙ্গে নয়।

বাংলাদেশেও কেন এত আপন?
উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা পশ্চিমবঙ্গের সীমানায় আটকে থাকেনি। বাংলাদেশের দর্শকের কাছেও তাঁর সিনেমা দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ও জনপ্রিয়।

পূর্ব পাকিস্তান আমলে কলকাতার বাংলা সিনেমা প্রদর্শনের সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ার আগেই ঢাকার দর্শক উত্তম-সুচিত্রা জুটির বহু ছবি দেখেছেন। পরবর্তী সময়েও টেলিভিশন ও বিভিন্ন মাধ্যমে তার চলচ্চিত্র বাংলাদেশের দর্শকের কাছে পৌঁছেছে।

ফলে উত্তম কুমার শুধু পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র-তারকা নন; তিনি দুই বাংলার যৌথ সাংস্কৃতিক স্মৃতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার হাসি, সংলাপ বলার ধরন কিংবা পর্দায় উপস্থিতি- এসবের সঙ্গে একাধিক প্রজন্মের দর্শকের ব্যক্তিগত স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

যে স্মৃতি সিনেমার বাইরে
উত্তম কুমারের প্রভাব বোঝার জন্য তার সহকর্মী বা চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের কথার পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্মৃতিগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। সন্দীপ রায়ের শৈশবের স্মৃতিতে যেমন আছে লেক টেম্পল রোডের বাড়িতে উত্তম কুমারের আসা, ছোট্ট সন্দীপের ভয়-ভয়ে অটোগ্রাফ চাওয়া এবং মহানায়কের সই করে দেওয়া।

এই ছোট ঘটনাটির মধ্যেই আসলে উত্তম কুমারের তারকাখ্যাতির একটি ছবি পাওয়া যায়-একদিকে শিশুর চোখে তিনি ছিলেন প্রায় পৌরাণিক এক মানুষ, অন্যদিকে সেই ‘মহানায়ক’ খুব স্বাভাবিকভাবেই খাতায় সই করে দিচ্ছেন। এই দুই উত্তম- পর্দার দেবতার মতো তারকা এবং বাস্তবের সহজ মানুষ- মিলে তৈরি হয়েছে তার কিংবদন্তি।

মৃত্যুর পরও কেন শেষ হয়নি উত্তমের গল্প?
১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান উত্তম কুমার। সেই মৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্রে একটি শূন্যতা তৈরি করেছিল। কিন্তু আশ্চর্য হলো, সময় যত পেরিয়েছে, সেই শূন্যতা ততই তাঁর উপস্থিতির স্মারক হয়ে উঠেছে।

তার মৃত্যুর পর নতুন নায়ক এসেছেন, নতুন তারকা এসেছেন, চলচ্চিত্রের ভাষা বদলেছে, দর্শকের রুচি বদলেছে। কিন্তু ‘উত্তম কুমার’ নামটি কোনো নির্দিষ্ট দশকের সঙ্গে আটকে যায়নি। কারণ তিনি শুধু একটি সময়ের জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন না। নিজের সময়ের জনপ্রিয়তার ভাষাটিকেও তিনি বদলে দিয়েছিলেন।

মহানায়ক আসলে কে?
‘মহানায়ক’ শব্দটি উত্তম কুমারের ক্ষেত্রে শুধু একটি সম্মানসূচক অভিধা নয়। এটি তাঁর দীর্ঘ অভিনয়যাত্রার একটি সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা।

একজন তরুণ অভিনেতা হিসেবে তিনি ব্যর্থতা দেখেছেন। তারপর জনপ্রিয় নায়ক হয়েছেন। জনপ্রিয়তার শিখরে উঠে নিজের ইমেজকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। চরিত্রাভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রযোজনা ও পরিচালনায় গিয়েছেন। জাতীয় পর্যায়ে অভিনয়ের স্বীকৃতি পেয়েছেন। আর মৃত্যুর পরও দর্শকের সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে নিজের জায়গাটি ধরে রেখেছেন। তার সবচেয়ে বড় অর্জন সম্ভবত এখানেই- তিনি সময়ের সঙ্গে বদলেছেন, কিন্তু তার জনপ্রিয়তা বদলানোর প্রয়োজন হয়নি।

২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে তার জন্মের একশ বছর পূর্ণ হয়েছে। এই এক শতক পার করে উত্তম কুমারকে দেখলে তাই শুধু একজন পুরোনো সিনেমার নায়ককে দেখা যায় না। দেখা যায় বাংলা চলচ্চিত্রে একজন তারকা কীভাবে একটি সাংস্কৃতিক প্রতীকে পরিণত হন, তার এক অসাধারণ উদাহরণ।

আজকের প্রজন্ম হয়তো তার সব সিনেমা দেখেনি। তার সময়ের সামাজিক বাস্তবতাও তাদের কাছে অচেনা। তবু ‘উত্তম কুমার’ নামটি তাদের কাছে অপরিচিত নয়। এটাই হয়তো মহানায়ক হওয়ার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

একজন অভিনেতা চলে যান। তার সিনেমা পুরোনো হয়। তার সময় শেষ হয়ে যায়। কিন্তু যদি তার উপস্থিতি প্রজন্মের পর প্রজন্মের কল্পনায় থেকে যায়, যদি তার অভিনয় নতুন অভিনেতাদের জন্য পাঠ হয়ে থাকে, যদি তার চরিত্র নিয়ে আজও নতুন করে আলোচনা করার কারণ থাকে তাহলে তিনি আর শুধু ইতিহাসের মানুষ থাকেন না। তিনি হয়ে ওঠেন সাংস্কৃতিক স্মৃতি। আর সেই স্মৃতির নাম উত্তম কুমার।

খুলনা গেজেট/এএজে




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন